Wednesday, 5 September 2012

গ্রামীণ ব্যাংক, ড. ইউনূস এবং নারীর ক্ষমতায়ন : রোকেয়া কবীর

যুক্তি বা বাস্তবতা দিয়ে যাচাই না-করে হুজুগে চলা এবং ভাবাবেগে তাড়িত হবার বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে আমাদের কুখ্যাতি থেকেই ‘চিলে কান নিয়েছে শুনে চিলের পেছনে দৌড়ানো’র পরিচিত প্রবাদটির প্রচলন। সাধারণত শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত, যুক্তি দিয়ে বিচার করবার প্রক্রিয়া থেকে বিযুক্ত মানুষের মধ্যেই এ প্রবণতা লক্ষণীয় হবার কথা। কিন্তু সাধারণ বৈশিষ্ট্যের কিছু সাধারণ প্রভাব সবার মধ্যে থেকে যাওয়াটি অস্বাভাবিক নয়; বিশেষত যে সমাজে বিদ্যায়তনগুলোতে যুক্তি, বুদ্ধি ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা এখনো যথাযথ স্থান করে নিতে পারে নি, সেখানে এমন প্রবণতা শিক্ষিত মানুষের মধ্যেও থেকে যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে হুমায়ূন আহমেদের দুঃখজনক অকালমৃত্যু-পরবর্তী একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়কেন্দ্রিক ঘটনাবলি এবং আমাদের জাতীয় অহংকার গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকার গৃহীত পদক্ষেপ ও তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া অবলোকন করে মনে হচ্ছে, আমাদের এখানে যাঁরা শিক্ষিত ও আলোকিত বলে বিবেচিত, এ সময়ের পপুলার ভাষায় ‘সিভিল সমাজ’-এর অংশ, তাঁদেরও অনেকের কথা বা বক্তব্য অনেকটা ‘চিলে কান নেয়ার’ লক্ষণদুষ্ট।

ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে সরকারি দল ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ সিভিল সমাজের একটি বড়ো অংশই তাঁদের বক্তব্যে ও লেখায় ড. ইউনূসের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা বলতে চান, সরকারের পদক্ষেপের কারণে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। দেশের সবেধন নীলমণি নোবেল বিজয়ী একজন বাংলাদেশি ব্যক্তির (কেউ কেউ বলেন মুসলিম) নোবেল প্রাপ্তির বিষয়টাকে আমরা জাতি হিসেবে মর্যাদা দিতে পারি নি। অনেকে আবার বলছেন, অন্য কেউ কেউ নোবেল প্রাপ্তির আশায় ছিলেন, কিন্তু পান নি বলেই হিংসার বশবর্তী হয়ে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কেউ কেউ আরো খানিকটা এগিয়ে বলছেন, সরকারের পদক্ষেপের ফলে নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের পথিকৃৎ মডেল হিসেবে সারাবিশ্বে স্বীকৃত গ্রামীণ ব্যাংকের উপকারভোগী নারীদের ক্ষতি হয়েছে এবং সরকারের এই পদক্ষেপ নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণে অনন্য অবদান রাখা সংগঠনটিকে ধ্বংস করে দেশকে অনেকদূর পিছিয়ে দেবে।

আমাদের পর্যবেক্ষণ হলো, এখানে বাস্তবতার যথাযথ বিশ্লেষণ না-করেই ড. ইউনূসের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা গ্রামীণ ব্যাংকের প্রশংসনীয় মডেল এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ ও নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্নটিকে ভুলভাবে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্য এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ ও নারীর ক্ষমতায়নের বিষয় দুটিকে আলাদা করে না-দেখলে প্রকৃত বাস্তবতা সম্পর্কে বিভ্রান্ত হবার  আশংকা থেকে যাবে।

দারিদ্র্য দূরীকরণের অন্যতম বাধা দুর্নীতি দূর করতে কমবেশি আমরা সবাই সোচ্চার। দুর্নীতি দূর করবার মূল প্রক্রিয়া হিসেবে রাষ্ট্রসহ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করবার বিষয়টি আমরা সবাই মিলে চিহ্নিত করেছি, যা আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃত। সুশাসন ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারে ড. ইউনূসকেও সর্বদাই সম্মুখসারিতে সরব হিসেবে পেয়েছি আমরা। অথচ গ্রামীণ ব্যাংক এবং এর সফল রূপকারকে নিয়ে নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের অনুসন্ধানী তথ্যচিত্রে ৭০০ কোটি টাকার অনিয়মের বিষয়টি উদঘাটিত হবার পর সরকার যখন গ্রামীণ ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে চেষ্টা করছে, তখনই আমরা ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক নোবেল পুরস্কার পেয়েছে এই যুক্তিতে সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছি, যেটা সম্পূর্ণভাবে একটি স্ববিরোধী ও আত্ম-পরাজয়ী অবস্থান। তবে এটাও অস্বীকার করা যাবে না যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, পদ্মাসেতু প্রকল্প, দেশের তেল-গ্যাস সম্পদ ব্যবহারের নীতি প্রণয়ন প্রভৃতি বিষয়ের মতো গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়ে পদক্ষেপেও সরকারের বিচক্ষণতা ও পেশাদারিত্বের ঘাটতি রয়েছে। সরকারের এই সীমাবদ্ধতা এবং ব্যর্থতার সমালোচনা নিশ্চয়ই হওয়া উচিত এবং এর বিরুদ্ধে সরব হওয়া সকল নাগরিকের দায়িত্ব। সরকারের পদক্ষেপ ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’-- অনেকের এই বক্তব্যের ভিত্তি আছে ধরে নিলেও বিশেষ মর্যাদা, ভাবমূর্তি আর আন্তর্জাতিক প্রভাবের দোহাই দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া যাবে না, এমন কথা বলা প্রকৃতপক্ষে জবাবদিহিতার বিষয়টিকে দুর্বল এবং উচ্চকোটি বা এলিট পক্ষপাতদুষ্ট করে তোলে। এই মনোভাব ‘আইনের চোখে সকলেরই সমান’-- গণতন্ত্রের এই ভিত্তিটাকে দুর্বল করে দেয়।

বাংলাদেশের জনগণের বীরত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ বারবারই যেমন সম্মান কুড়িয়েছে, তেমনি এর বিপরীতে ভাবমূর্তি ভূলুণ্ঠিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। দুর্নীতি ও ভাবমূর্তি ভূলণ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি সবক্ষেত্রে নিরপেক্ষ নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, পিস্তল ঠেকিয়ে কারো জিনিসপত্র কেড়ে নিলে তা হয় ছিনতাই, গরিব কেউ অগোচরে অন্যের ঘর থেকে টাকাপয়সা বা মালসম্পদ সরিয়ে নিলে তা হয় চুরি, ফাইল আটকিয়ে টাকাসহ অন্যান্য সুবিধা নিলে তা হয় ঘুষ, আর উচ্চপর্যায়ে থেকে সাগরচুরি (পুকুরচুরি)-র ঘটনাগুলোকে আমরা সচরাচর দুর্নীতি/কেলেংকারী হিসেবেই দেখি। তাদেরকে আমরা চোর বলি না। সমাজে ছোট চোরদের মতো তারা সংকুচিত ভাব নিয়ে চলেন না, বরং মিডিয়া থেকে শুরু করে সরকার, প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, সকলের সাথেই তাদের দাপটের সাথে চলাফেরা করতে দেখি।

ভাষা আন্দোলনসহ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের ভিতর দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণসহ সারা পৃথিবীর গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে যেমন বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে অনেক উচ্চে তুলে ধরেছে, তেমনি ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা ও পরবর্তী সময়ে জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনাটি তাদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে জন্ম নেয়া বাংলাদেশ, মার্কিন সরকারসহ ন্যাটোভুক্ত দেশের সরকারগুলোর কাছে কখনই ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা ঘটনা নয় বরং চিহ্নিত হয় ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে। আর ১৯৭৫ সালের আগস্ট হত্যাকা-ের মধ্য দিয়ে দেশকে সামরিক শাসন ও পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেবার ঘটনায় মার্কিন সরকার ও তার মিত্রদের ভূমিকা কারো অজানা নয়।

দেশের ভাবমূর্তি লিঙ্গনিরপেক্ষ বিষয়ও নয়। তসলিমা নাসরিনকে যখন দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়, সারা পৃথিবীতেই তখন নিন্দার ঝড় ওঠে, বিদেশে দেশের ভাবমূর্তিও ভূলুণ্ঠিত হয়; কিন্তু তখনো আমাদের দেশের হাতেগোনা মুষ্টিমেয় কজন নারী-মানবাধিকার এবং আইনি অধিকার নিয়ে কর্মরত ব্যক্তি ছাড়া কাউকে দেশের ভাবমূর্তি নিয়ে সোচ্চার হতে দেখা যায় নি। বাংলাদেশের উচ্চ মাতৃমৃত্যু হার, বাল্যবিবাহ, বাল্যমাতৃত্ব এখনো অগ্রহণযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। সিডও সনদের ২ নম্বর ধারা এখনো সংরক্ষিত। এগুলোও বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ভূলুণ্ঠিত করছে। কারণ বাংলাদেশের যে সকল অর্জন সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশকে প্রশংসনীয় জায়গায় নিয়ে গিয়েছে, যেমন জনসংখ্যার হার কমানো, কৃষিতে বিপ্লব, ক্ষুদ্রঋণ, গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্প-কারখানার প্রসার ও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন তার প্রতিটিই মূলত নারীদের অদৃশ্য, বিনা ও অল্প বেতনের শ্রমের মধ্য দিয়ে অর্জিত। দুঃখজনকভাবে আমরা দেখি, বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনায় (রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে) যাঁরা দায়িত্ব পালন করেন, তাঁরা ‘আমরা দেশের জন্য বিশাল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা আনি, কাজেই সরকারের কাছ থেকে আমাদের আর্থিকসহ অন্যান্য সুবিধা প্রাপ্য’-- ব্যবসায়ী ও শিল্প-মালিকদের এই অবাস্তব দাবি মেনে নিয়ে তাদের বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছেন। অথচ এর বিপরীতে শ্রমিকনারী ন্যূনতম জীবনধারণ উপযোগী বেতনও পাচ্ছেন না। যদিও এই শ্রমিকনারীদের অতি সস্তা শ্রমের বিনিময়েই উল্লিখিত বৈদেশিক মুদ্রাগুলো আসছে। আমরা মার্কস-এর সারপ্লাস ভ্যালু সম্পর্কে জানি। তবে এটা বুঝতে মার্কস পড়ারও দরকার হয় না যে, বাংলাদেশে শ্রমিকনারীদের শ্রম অতি কম মূল্যে পাওয়া যায় বলেই অন্যদেশ থেকে গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্প-কারখানা এখানে স্থানান্তরিত হচ্ছে। মালিক বা এখানকার ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা কাঁচামাল দেখে তারা এখানে আসছে না।

আমরা জানি, অতি সম্প্রতি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে ঢাকা শহর পৃথিবীর ১৪০টি শহরের মধ্যে বসবাসের উপযোগিতার দিক থেকে ১৪০তম, অর্থাৎ প্রায় বসবাসের অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায়। এজন্য দায়ী কারা? সরকার, রাজনৈতিক দল, এনজিও, ব্যবসায়ী ও তাদের বিভিন্ন সংগঠন ও নগর পরিকল্পনাবিদগণসহ অনেকেই এবং ভূমিদস্যুরা তো অবশ্যই। কিন্তু এ বিষয়ে কোথাও কোনো উচ্চবাচ্য শোনা যায় না। কেবল ভাবমূর্তি হলে এত মাথাব্যথা হতো না, যদি রাষ্ট্র, তার নীতি ও এর বাস্তবায়ন প্রশ্নের মুখে না পড়ত, যা মানুষের জীবন-জীবিকাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের বর্তমান যে মডেল, তার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন এবং নারীর ক্ষমতায়ন আদৌ সম্ভব কি না সেটা দেখা সবচেয়ে বেশি জরুরি। তবে এ নিয়ে বিভিন্ন মত আছে। গ্রাম ও বস্তিবাসী নারীদের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের কাজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক নারী অধিকার ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন গবেষণা তথ্যের মাধ্যমে এটা উপলব্ধি করা দুরূহ নয় যে, দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে গ্রামীণ মডেল কোনোক্রমেই কার্যকরী কোনো মডেল নয়। দীর্ঘ ব্যাখ্যায় না-গিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, বর্তমানে যে সমাজ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু আছে তাকে চ্যালেঞ্জ না-করে বা তার কাঠামো, বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন না-করে দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। গ্রামীণ মডেল স্ট্যাটাস ক্যু বজায় রেখেই ক্ষুদ্রঋণসহ অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনা করছে। সুতরাং এর দ্বারা নারী বা দরিদ্রের ক্ষমতায়ন কতটুকু সম্ভব তা সহজেই বোধগম্য।

এটা পরিষ্কার যে দরিদ্র নারীরা যখন ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে কোনো একটা জিনিস তৈরি করে, তখন সেখানে তারা প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও শ্রম বিনিয়োগ করে থাকে। আমরা জানি তাদের কোনো শিক্ষা নেই, প্রশিক্ষণ নেই। স্বল্প পুঁজিতে তারা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও বিদ্যুৎ সুবিধা ক্রয় করে পণ্যের মানোন্নয়ন করতে পারে না। সুতরাং তারা যখন তাদের পণ্য বাজারজাত করবার উদ্যোগ নেয়, তখন তাদের শ্রমের মূল্য বাদ দিয়েই তারা পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করতে বাধ্য হয়। কারণ তা করা না-হলে তারা বাজারে টিকে থাকতে পারে না। ক্ষুদ্রঋণের বিপরীতে যে পরিমাণ উচ্চহারে (কম করে হলেও ২৫%) সুদ দিতে হয়, তাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের মাধ্যমে রেট অব রিটার্ন যা আসে, তা আদৌ লাভজনক হয় কি না, বিশেষজ্ঞদের সে হিসাব করে দেখা দরকার। এই হিসেবটা করা হলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে যে, এ পদ্ধতিতে দারিদ্র্য দূরীকরণ আদৌ সম্ভব নয়।

তবে হ্যাঁ, গ্রামীণ ব্যাংক ও অন্যান্য ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানেরও কিছু কৃতিত্ব আছে, তবে সেটা দারিদ্র্য বিমোচনে নয়, বরং সারভাইভাল বা কোনোভাবে টিকে থাকতে সহায়তা করায়। মূলত কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের সাবজিস্টেন্স ইকোনমির যে মূল আধার : পতিত জমি, জঙ্গল, জলাভূমি থেকে দরিদ্র নারীগোষ্ঠী তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাদ্য, লাকড়ি, ঘরকন্নার কাজের জিনিসপত্র, পানি ইত্যাদি সংগ্রহ করতে পারত বিনামূল্যে কেবল তাদের শ্রম দিয়ে, তা খুব দ্রুত সংকুচিত হয়ে পড়ছে জমি, জলাভূমি, জঙ্গল ইত্যাদির বাণিজ্যিক ব্যবহারের ফলে। এই অবস্থায় দরিদ্র নারীদের শ্রম ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে ব্যবহার করে তারা টিকে থাকছে। এছাড়াও, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো এই মিথকে ভেঙে দিতে পেরেছে যে, ‘দরিদ্র ও নারীরা ঋণপ্রাপ্তির উপযুক্ত বা ব্যাংকেবল নয়’। ক্ষুদ্রঋণ প্রথাগত দাদন ব্যবসায়ীদের উচ্চ সুদের ঋণচক্র থেকে নারী ও দরিদ্রদের মুক্ত হতে সহায়তা করেছে। এছাড়াও ক্ষুদ্রঋণ ও এনজিওদের বিভিন্ন কর্মসূচি নারীদের কতগুলো সামাজিক দাসপ্রথার কবল থেকেও মুক্ত করেছে। উদাহরণ দেয়া যাক। ১৯৯৫-’৯৬ সালে যখন বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিওর তত্ত্বাবধানে গ্রামের দরিদ্র নারীদের লাগানো তুঁতগাছ কেটে ফেলা হলো, তখন বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা সরেজমিনে ওখানে গিয়ে দেখেছি যে, জোতদার শ্রেণি ধান-পাটের মৌসুমে সস্তাশ্রমের জোগান দেবার জন্য মৌসুমী বিয়ে করত এবং মৌসুম শেষ হলে কিছু টাকাপয়সা ও কাপড়চোপড় দিয়ে অস্থায়ী বৌটিকে বিদায় করে দিত। এনজিওর মাধ্যমে তুঁতগাছ লাগানো ও আয়মূলক কাজে দরিদ্র নারীরা যুক্ত হওয়ায় মৌসুমী বিয়ে করা তখন তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। এজন্যই ধর্মীয় কুসংস্কারের সুড়সুড়ি দিয়ে তখন তুঁতগাছ কাটা হয়েছিল। কিংবা উদাহরণ দেয়া যায় ১৯৯৮-এর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনাটিরও। ওখানে তৃণমূল জনসংগঠনের জনসভায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর মাধ্যমে যে আক্রমণ পরিচালিত হয়েছিল, তার নেপথ্যে কাজ করেছিল এনজিওসমূহের ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনার ফলে দাদন ব্যবসায়ে ভাটা পড়ার প্রভাব। দাদন ব্যবসায়ীরাই ধর্মীয় গোষ্ঠীকে এই আক্রমণ পরিচালনায় ইন্ধন জুগিয়েছিল।

নারীর ক্ষমতায়নসংক্রান্ত আলোচনার সময় একটি বিষয় আমাদের মনে রাখা দরকার যে, ক্ষুদ্রঋণের গ্রহীতা হিসেবে নারীদের বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে নয়; বরং জামানতবিহীন ঋণ নিয়েও নারী ভেগে যেতে পারবে না-বলেই তাদের গুরুত্ব দেয়া হয়। কারণ আমাদের সমাজে নারীর অবাধ চলাচল ও অভিবাসনের সুযোগ খুব সীমিত। ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানে যে, দরিদ্র নারীদের ঋণ দিলে তা যে করেই হোক ফেরত আনা যাবে। নারীরা সাধারণত ঋণখেলাপি হয় না। আমাদের সমাজে নারীর অধস্তন অবস্থা এবং নানা সীমাবদ্ধতা ও বৈশিষ্ট্যই ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম, তৈরি পোশাক, চিংড়ি ঘের-এর মতো খাতগুলোতে নারী অংশগ্রহণের প্রাধান্যের কারণ।

সিভিল সোসাইটি ও দেশ-বিদেশের অনেকেই যখন গ্রামীণ ব্যাংকের স্বচ্ছতার প্রশ্নে নেয়া সরকারি উদ্যোগের কারণে সরকারের বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ করে চলেছেন, তখন তাঁরা বলছেন যে, নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা পালনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংককে বিরক্ত করা যাবে না। এখানে স্পষ্টভাবে দুটি জিনিস বলা দরকার যে সরকার গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে প্রথমেই ঢালাওভাবে ‘বিরক্ত করা’ হিসেবে অভিহিত করাটি নিরপেক্ষতাপ্রসূত দৃষ্টিভঙ্গি নয়; যেকোনো যুক্তিতে তা হবে ব্যাংকটির কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টাকে ব্যাহত করার নামান্তর। দ্বিতীয়ত, সরকারের ওপরও যুক্তিসংগতভাবে এই চাপ রাখতে হবে যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ যেন কোনোভাবেই পেশাদারিত্বের মানকে ক্ষুণ্ন না-করে বা ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার পর্যায়ে পর্যবসিত না হয়। এ দুই প্রশ্নেই কোনো ছাড় দেবার উপায় নেই। অনেকের বক্তব্য ও তৎপরতা দেখে মনে হয়, গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূসকে যেন সরকারের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ করে ভাবা হচ্ছে। যেন তিনিই কেবল দেশের ভালোমন্দ নিয়ে নিরন্তর ভাবনাচিন্তা করে চলেছেন। এ প্রসঙ্গে আমার মায়ের বলা একটা কথা মনে পড়ে। মা বলতেন, ‘রাজা চিন্তায় মরেন রাজ্য নিয়ে, আর যোগী চিন্তায় মরে তার ন্যাংটি নিয়ে’। ড. ইউনূস চিন্তা করবেন তাঁর সৃষ্ট গ্রামীণ ব্যাংকের মডেল নিয়ে তাতে দোষের কিছু নেই। তবে ভুলে গেলে চলে না যে, ব্যক্তির চেয়ে প্রতিষ্ঠান/দল বড়ো, প্রতিষ্ঠান/দলের চেয়ে দেশ বড়ো (এ উপদেশ অবশ্য আমরা রাজনীতিবিদদের সব সময়ই দিয়ে থাকি)। অনেকে বলছেন, পদ্মাসেতুর অর্থসাহায্য বন্ধে তাঁর ভূমিকা আছে, এ বিষয়ে আমি সন্দিহান। ৯ আগস্ট দেশের বাইরে থেকে ফিরে এসেই ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষে ৬০ জন নারীনেত্রীর বিবৃতিতে আমারও স্বাক্ষরদানের কথা কয়েকজনের কাছে শুনতে পেয়ে বেশ বিস্মিত হয়েছি। আমি ভাবতে পারি না কারোর সঙ্গে যোগাযোগ না-করে, মত না-নিয়ে বিবৃতিতে নাম ব্যবহার করার নির্দেশ ড. ইউনূস দিয়ে থাকতে পারেন! অনেক সময় বাঁশের চেয়ে যেমন কঞ্চি দড় হয়, তেমনি এটা গ্রামীণ ব্যাংকেরই কেউ ড. ইউনূসের কাছে তার যোগ্যতা প্রমাণের জন্য করেছেন বলে ধারণা করি। তবে এই ঘটনা এই আশঙ্কাকে কিছুটা ভিত্তি দেয় যে, তিনি দেশের জনগণের স্বার্থের বাইরে গ্রামীণ ব্যাংক ও নিজেকে নিয়েই বেশি চিন্তিত।

যাহোক, যাঁরা নারীর ক্ষমতায়ন বিঘ্নিত হতে পারে এই আশঙ্কা থেকে সরকারের বিরুদ্ধে এবং গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছেন, তাঁদের কাছে নারী আন্দোলনের কর্মী হিসেবে আমার কয়েকটি প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে। প্রথম প্রশ্নটি হচ্ছে, নারীর ক্ষমতায়নে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ও উত্তরাধিকারে সমঅধিকার বেশি জরুরি নাকি ক্ষুদ্রঋণ? এই প্রশ্নের কারণ, নারী উন্নয়ন নীতির বিরুদ্ধে যখন ধর্মীয় লেবাসধারী জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী ব্যাপকভাবে সহিংস পন্থায় রাস্তায়, মসজিদে, মাদ্রাসায় তুলকালাম কাণ্ড ঘটায়, তখন নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্নে বর্তমানে সরব অনেক ব্যক্তিকেই আমরা কোনো কথা বলতে শুনি নি। আরেকটি প্রশ্ন হলো, আমরা বলতে শুনি যে, গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক হচ্ছে ৮০ লাখ দরিদ্র নারী! ব্যাপারটা কি ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ’-এর মতো? রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কতটা প্রতিফলন ঘটে না-ঘটে তা আমরা আমাদের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা দিয়েই দেখতে পাই। গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনায় দরিদ্র নারীদের সিদ্ধান্তের মূল্য কতটুকু তা নিশ্চয়ই এ অভিজ্ঞতা থেকেই অনুমান করা যায়। আরো সুনির্দিষ্টভাবে বলতে হয় যে, সার্বিকভাবে নারীদের প্রয়োজনের অগ্রাধিকার যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, পানি, রান্নাঘরের জ্বালানি, চলাচলের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো আরো অনেক কিছু, সেখানে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে গড়ে ওঠা প্রায় ৫০টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তৈরি এবং যেগুলোর মালিকানা নিয়ে রয়েছে নানা অস্বচ্ছতা, সেগুলোকে অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত কি গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা ও কথিত মালিক দরিদ্র নারীরা নিয়েছিলেন?

আসলে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলে ক্ষুদ্রঋণকে বড়ো করে দেখানোটা একটা বড়ো ফাঁকি। জেন্ডারকে মূলধারাকরণের প্রশ্নে বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা উঠলেই আন্তর্জাতিক অর্থ সরবরাহকারী সংস্থাসহ বিভিন্ন দাতা প্রতিষ্ঠান থেকে বলা হয়, নারীদের জন্য বিরাট অংকের বরাদ্দ রয়েছে, যা দিয়ে ক্ষুদ্রঋণ দেয়া হচ্ছে। এটা আমি ১৯৯৮ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত ‘গ্লোবাল কমিটি অব দা সিভিল সোসাইটি অন ওয়ার্ল্ড ব্যাংক’-এর জেন্ডার ফোকাল পারসন হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্টসহ অন্যদের সঙ্গে কাজ করবার সময় মোকাবেলা করেছি। একই অভিজ্ঞতা হয়েছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্টের ওমেন অ্যাডভাইজরি প্যানেলের মেম্বার হিসেবে কাজ করবার সময়ও। বস্তুতপক্ষে ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন যেমন হয় না, তেমনি তা জেন্ডার অসমতা দূরীকরণের কাজেও ব্যয় হয় না। ২০০০ সালের আগপর্যন্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দাতাসংস্থা ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দরিদ্র নারীদের উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত করতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে ঘূর্ণায়মাণ ঋণ তহবিলের সিড মানি হিসেবে অনুদান প্রদান করত। এই অর্থ উন্নয়ন সংস্থাগুলো ৫-৬ শতাংশের মতো অতি স্বল্প সার্ভিস চার্জে (বিনিয়োজিত অর্থ লেনদেনের ব্যয় ও টাকার মূল্যমান ধরে রাখার জন্য যতটুকু অতিরিক্ত আদায় করা দরকার) দরিদ্র ও নারীদের মধ্যে বিতরণ করত ক্ষুদ্রঋণ হিসেবে। কিন্তু মূলত গ্রামীণ ব্যাংক মডেলের সাফল্যের দোহাই দিয়ে (যা মূলত গ্রামীণের উচ্চ সুদ ও ঋণ আদায় পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করার একটি উসিলা ছিল), বিশ্বব্যাংকের চাপে সব দাতাসংস্থাই পরে এই তহবিল প্রদান বন্ধ করে দেয়। প্রকৃতপক্ষে তহবিল বন্ধ করার প্রকৃত কারণ ছিল, সহনীয় সার্ভিস চার্জ সম্বলিত এ ধরনের অর্থ ছাড় করা হলে গ্রামীণ ব্যাংকের মতো যেসব প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণের ব্যবসা করে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবার সম্ভাবনা দূর করা। আমি মনে করি, গ্রামীণ ব্যাংকজাতীয় বড়ো ঋণদানকারী সংস্থাগুলোর স্বার্থে এবং বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে সিড মানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাটাই বরং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণে ক্ষুদ্রঋণের ব্যবহারকে বহুলাংশে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং উচ্চ মুনাফা ব্যতিরেকে দরিদ্র নারী-পুরুষদের আর্থিক সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকে স্বাবলম্বী হবার নামে মুনাফামুখী ঋণদানকারী সংস্থায় রূপান্তরিত করেছে। এই প্রবণতাকে দেশব্যাপী বা আরো যথার্থভাবে বললে বিশ্বব্যাপী এক ক্ষতিকর রূপদানে এ মডেলটি অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে প্রিয়ভাজন ‘মডেল’-এ পরিণত হয়েছে। এর উদাহরণ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদনে লভ্য, যা পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে; যেমন লাইবেরিয়ান ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা এলএপিও, যারা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নেয় এবং যেখানে গ্রামীণ ফাউন্ডেশন ইউএসএ (ড. ইউনূস যার বোর্ড মেম্বার), সিটি মাইক্রোফাইন্যান্স এবং স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক অর্থলগ্নি করছে।

কাজেই গ্রামীণ-এর ক্ষুদ্রঋণ মডেলকে দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নের একমাত্র মহৌষধ হিসেবে দাঁড় করানোর নানা ঝুঁকি আছে। ইতোমধ্যে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, বিশ্বব্যাংকের স্ট্রাকচারাল অ্যাডজাস্টমেন্ট পলিসি (সেপ) অনুসরণ করে অনেক দেশেই দুর্যোগ নেমে এসেছে, যা আমরা জানি। এর বিপরীতে যেসব দেশ নিজস্ব নীতি দ্বারা পরিচালিত হয়, যেমন মালয়েশিয়া; তারা সার্থকভাবেই বিশ্বমন্দা পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে পেরেছে। তাই গ্রামীণ মডেলকে একমাত্র উপায় বিবেচনা করে দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য গৃহীত বৈষম্য দূর করায় কার্যকর বিভিন্ন পদক্ষেপকে গৌন ভাববার ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকা দরকার। তা না হলে আমরা ভবিষ্যতে বড়ো ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারি। দেশকে নিয়ে, দেশের সমাজ-রাজনীতি নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করেন এমন অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকগণ যদি আমার এই আশঙ্কাটির বিষয়ে একটু আলোকপাত করেন, তাহলে তা আমাদের জন্য মঙ্গলকর হবে বলে ধারণা করি। 

রোকেয়া কবীর মুক্তিযোদ্ধা ও নারীনেত্রী

Wednesday, 23 May 2012

জেন্ডারসংবেদী বাজেট বিষয়ে বিএনপিএস-এর সংবাদ সম্মেলন


বিজ্ঞান, তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাজেটে উপযোগী বরাদ্দ চাই : নারীকে দক্ষ মানবসম্পদে উন্নীত করার জন্য ১৯টি সুপারিশ

২১ মে ২০১২, ভিআইপি লাউঞ্জ, জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা


প্রিয় সাংবাদিক বোন ভাইয়েরা,

আপনারা অবগত আছেন, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) ১৯৯৯ সাল থেকে জাতীয় বাজেটের জেন্ডারভিত্তিক বিশ্লেষণ শুরু করেছে এবং ২০০০ সালে প্রথম জাতীয় বাজেটে নারীর ন্যায্য হিস্যার দাবি উত্থাপন করেছে এর পর থেকে চলতি বছর পর্যন্ত আমরা এই কাজটি অব্যাহত রেখেছি পরবর্তী সময়ে এদেশের অন্য অনেক সংস্থাও জাতীয় বাজেটে নারীর জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিটি সামনে তুলে এনেছে এসব দাবির প্রেক্ষিতে জাতীয় বাজেটেকে নারীসংবেদী করার একটি প্রচেষ্টা ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে আমাদের এক যুগের অভিজ্ঞতা বলছে, বাজেটে কেবল বরাদ্দ বাড়ানোই শেষ কথা নয় নির্দিষ্ট বরাদ্দের ব্যয় নিশ্চিত করা, ব্যয়ের যথাযথ পরিবীক্ষণ করা এবং যে উদ্দেশ্যে ব্যয় করা হয়েছে সে উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা না-থাকলে বাজেটে নারীর জন্য বরাদ্দ থাকলেও তা নারীর উন্নয়নে যথাযথ ফল প্রদান করে না

বন্ধুগণ,

আপনারা জানেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারভুক্তরূপকল্প ২১’-এর আওতায় বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ, যে স্বপ্নের বাস্তবায়নে তথ্য তথ্যপ্রযুক্তিই প্রধান হাতিয়ার এর আওতায় সরকার প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে মাত্র গতকালই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের ৫০০ মাধ্যমিক ৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ উদ্বোধন করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়সমূহের শিক্ষকদের ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে এছাড়া নারী উন্নয়নের জন্য সরকারের আরো সুনির্দিষ্ট প্রশংসনীয় উদ্যোগ অঙ্গীকার রয়েছে; যার মধ্যে  উল্লেখ করতে হয়জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ ২০১১ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আহ্বানের কথা-- ‘শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে নারীর সমান অভিগম্যতা চাই আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আহ্বানকে সরকারসহ আমরা সবাই গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছিলাম এসব অঙ্গীকার পূরণের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগও গ্রহণ করেছে গৃহীত উদ্যোগসমূহ কতটা নারীসহায়ক হয়েছে, না-হলে তার সীমাবদ্ধতাগুলো কোথায় তা খতিয়ে দেখতে এবার আমরা বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের গত তিন বছরের (২০০৯-’১০ থেকে ২০১১-’১২) বাজেট বিশ্লেষণ করেছি এবং এই খাতের জেলা উপজেলা পর্যায়ের সম্ভাব্য উপকারীভোগীদের সাথে কথা বলেছি বিষয়ে যে প্রতিবেদনটি প্রণীত হতে যাচ্ছে, তা প্রধানত তৃণমূল পর্যায়ের নারী-পুরুষ, সমাজকর্মী, নাগরিকসমাজ, সংবাদজনদের সচেতন তথ্যসমৃদ্ধ করার জন্য; যাতে সকল মহলের সক্রিয় প্রচেষ্টা উদ্যোগী ভূমিকায় নীতিনির্ধারক মহল তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা নারীর ক্ষমতায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আগ্রহী হয়

প্রিয় সংবাদকর্মী বন্ধুগণ,

আমরা জানি যে, তথ্য মানুষের ক্ষমতায়ন ঘটায় যার কাছে যত তথ্য, সে তত ক্ষমতাবান উপলব্ধি থেকে সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ও কাজ করছে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সকল কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো বিভিন্ন গণমাধ্যমের সহায়তায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-, জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য সংস্কৃতি এবং জনকল্যাণমূলক তথ্যাদি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা, সচেতন করা, সম্পৃক্ত করা এবং উদ্বুদ্ধ করা তাছাড়া, জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করাও এই মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ লক্ষ্য এই লক্ষ্য পূরণের জন্য ইতোমধ্যে তথ্য অধিকার আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে এই আইন সম্বন্ধে প্রয়োজনীয় তথ্য জনগণকে জানানো এবং তার মাধ্যমে সচেতন করাও এই মন্ত্রণালয়ের একটি লক্ষ্য

পুরুষের তুলনায় বাংলাদেশের বেশির ভাগ নারী নিরক্ষর এবং অল্পশিক্ষিত হওয়ার কারণে তথ্যসংযোগের মাধ্যমেই বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সচেতন করে তোলা যায় বাংলাদেশ বেতার এবং টেলিভিশন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে আমরা দেখেছি, স্বাস্থ্যরক্ষা এবং পুষ্টি বিষয়ে প্রতিষ্ঠান দুটি বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করে থাকে, যদিও তা পর্যাপ্ত নয় বাংলাদেশ বেতারের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন দেড় ঘণ্টাব্যাপী সরাসরি নারী উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত অনুষ্ঠান প্রচার করা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনও প্রতিদিন ৫০ মিনিট স্থায়ী এবং পাক্ষিক অতিরিক্ত ৫০ মিনিট স্থায়ী অনুষ্ঠান প্রচার করে থাকে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর নারী উন্নয়নের ওপর বছরে ,৬০০টিরও অধিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করে এবং চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তর থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫০টি নারীবিষয়ক প্রবন্ধ এবং ৪টি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করা হয় তথ্য অধিদপ্তর গড়ে প্রতি বছর নারী উন্নয়ন সম্পর্কিত ২৬০টি, প্রেস ইনস্টিটিউট ২০০টি এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা ১০০টি ফিচার প্রচার প্রকাশ করে থাকে এসব কার্যক্রম নারীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং নারী-পুরুষের বৈষম্য নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে সন্দেহ নেই কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় বাস্তবায়িত কার্যক্রম যথেষ্ট নয় সর্বোপরি এসব কর্মকা- নির্মাণে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ একেবারেই নগণ্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারী এসব উদ্যোগের নিষ্ক্রিয় গ্রহীতা এবং পুরুষরাই সক্রিয় প্রদায়কের ভূমিকায় থাকেন সরকারিভাবে নির্মাতা, গবেষক, লেখক, সম্পাদক, ভিডিওগ্রাফার, প্রচারক বা প্রযোজকের পদে বা দায়িত্বে নারীকে খুব কমই দেখা যায়

আমরা মনে করি, সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন অধিকারবিরোধী যে মতাদর্শ বিরাজ করছে, নারীকে ছোটো করে দেখার যে মানসিকতা এখনো অনেক মানুষ ধারণ করে আছে, এসব দূর করবার জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভুক্ত পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ না-করলে কেবল নারীকে সচেতন করে নারীর ক্ষমতায়নে বড়ো কোনো সুফল আনা যাবে না এজন্য বিভিন্ন তথ্য উপকরণে নারীর সনাতনী ভাবমূর্তি তুলে না-ধরে সমাজের কাছে তাদের কর্মজীবী, সমাজসেবী, রাজনীতিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার ব্যাপারে বেশি ত্নবান হতে হবে
 
মন্ত্রণালয়ের নীতি রয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের উন্নয়ন চ্যানেল স্থাপন, বেতারের এফএম সম্প্রসারণ এবং কমিউনিটি রেডিওর কার্যক্রম বৃদ্ধি করে ধর্মীয় কুসংস্কার, নারীর সম্পত্তির অধিকার, বাল্যবিবাহ বহুবিবাহ, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কুফল, দুর্যোগ সম্পর্কে আগাম সতর্কতা, নারীকে উত্যক্তকরণ রোধ, নারী শিশু অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর কিন্তু এসব কাজ যে প্রয়োজনীয় পরিমাণে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা বলার কোনো সুযোগ নেই বিভিন্ন পেশায় যোগ্যতাসম্পন্ন সচেতন নারীর উপস্থিতি সত্ত্বেও তথ্য গণমাধ্যমে নারীকে সক্রিয় ভূমিকায় এনে নারীর নিজস্ব সচেতন ভাবনা তুলে ধরার উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেই

আমাদের গবেষণার জন্য নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ বারহাট্টার তৃণমূল নারী-পুরুষদের সাথে আলোচনায় আমরা দেখতে পেয়েছি, তাঁরা বিভিন্ন উৎস (রেডিও-টিভি, মাইকিং, ব্লক সুপারভাইজার, স্বাস্থ্যকর্মী, এনজিওকর্মী, মোবাইল ফোন) থেকে শিশুদের টিকাদান, জন্মনিবন্ধন, কৃষি, স্যানিটেশন ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য পেয়ে থাকেন তবে তাঁরা তথ্য অধিকার আইন, কিংবা বাড়ির কাছে তথ্যকেন্দ্র আছে কি না সে সম্পর্কে কোনো ধারণাই রাখেন না তৃণমূল নারীদের মধ্যে চাহিদা রয়েছে কর্মসংস্থান, আইনি সেবা, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্যের

প্রিয় বন্ধুগণ

আমরা দেখেছি গত বছরে (২০০৯-’১০ থেকে ২০১১-’১২) তথ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য বাজেটে বরাদ্দ ছিল যথাক্রমে মোট বাজেটের .৩২ শতাংশ, .৩৭ শতাংশ .৩৭ শতাংশ মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন (জিবিআর) অনুযায়ী জানানো হয়েছে, ২০১১-’১২ অর্থবছরে মোট বাজেটের মাত্র ১০ শতাংশের উপকার পাবে নারী একই হিসাব মতে, এই মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন বরাদ্দের মাত্র ১৯ শতাংশ ব্যয় হবে নারীর কল্যাণে জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারী-পুরুষের অংশগ্রহণের একটি হিসাব তুলে ধরেছে তথ্য মন্ত্রণালয় এই হিসাব অনুযায়ী দেখা যায়, ২০১০-’১১ অর্থবছরে তথ্য মন্ত্রণালয় এর অধীনস্থ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের মধ্যে নারীর সংখ্যা মাত্র ১৪.৬১ শতাংশ ২০১১-’১২ অর্থবছরে নারীর অংশ সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ১৫.৬৭ শতাংশ হয়েছে এই মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনে নিয়োজিত মোট কর্মচারীর মধ্যে মাত্র ১১.৮৩ শতাংশ নারী, যা ২০১০-’১১ অর্থবছরে ছিল .৪৫ শতাংশ
 
প্রিয় সাংবাদিক ভাই বোনেরা,

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি সরকারের বিশেষ গুরুত্ব প্রদানের কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন ( টু আই) প্রোগ্রামের মাধ্যমে চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ, যার মাধ্যমে জনগণের তথ্য পাবার সুযোগ বেড়েছে এছাড়াও এক্ষেত্রে কাজ করছে সরকারের বিজ্ঞান তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তিসহ বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি-বিষয়ক গবেষণা, উন্নয়ন, প্রসার এবং এসবের সফল প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক সমৃদ্ধি অর্জনই হচ্ছে তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য
 
এই মন্ত্রণালয়ের জাতীয় তথ্য তথ্যপ্রযুক্তি নীতিমালার একটি ধারা হলো-- বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি-বিষয়ক সকল কার্যক্রমে নারীর পূর্ণ এবং সমঅংশগ্রহণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ত্বরান্বিত করা কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে অদক্ষ হবার কারণে গ্রামীণ নারীরা, যারা বাংলাদেশের নারী জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ, তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তি কেন্দ্রে (আইসিটি সেন্টার) গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন না এক্ষেত্রে নিয়ামক বা পরিচালকের ভূমিকায় তাদের উপস্থিতি অস্তিত্বহীন বললে অত্যুক্তি হবে না তাছাড়াও রয়েছে নারীদের অবাধ চলাচলে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা তবে মোবাইল ফোন প্রযুক্তি গ্রামীণ নারীকেও আজ তথ্যজগতে প্রবেশের বিরাট সুযোগ দিয়েছে এর মাধ্যমে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি প্রতারণাহীনভাবে বিদেশে কর্মরত আত্মীয়স্বজনের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা পেতে পারছেন এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিসম্বন্ধীয় তথ্যও তাঁরা এর মাধ্যমে পাচ্ছেন কিন্তু মোবাইল সেটের ওপর উচ্চ কর বহাল থাকায় বিভিন্ন সুবিধাসম্বলিত মোবাইল ফোন সেট উচ্চমূল্যে ক্রয় করার সামর্থ্য অধিকাংশ নারীই রাখেন না
আজকাল গ্রামগঞ্জের নারীরা ক্ষুদ্রউদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠছেন, যেখানে তথ্যপ্রযুক্তি তাঁদের লাভজনক বাজারের সন্ধান দিতে পারত, বেকার নারীকে লাভজনক শ্রমবাজারের সন্ধান দিতে পারত; কিন্তু তথ্যকেন্দ্রের অপ্রতুলতা, ব্যবহারদক্ষতা না-থাকা, ভাষাজ্ঞানে ঘাটতি থাকা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎপ্রবাহ না-থাকা, ইত্যাদি কারণে তাঁরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন  

বন্ধুগণ,

আমরা সবাই জানি, তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্যতা মেয়েদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণকেও দারুণভাবে সহায়তা করতে পারে নানা সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তাঁদের যাতায়াত অবাধ না-হওয়ায় বিভিন্ন লাইব্রেরিতে ঘুরে ঘুরে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি জোগাড় করতে না-পারলেও উচ্চবিদ্যালয় কলেজে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের পর্যাপ্ত সুবিধা থাকলে তাঁরা সে সুযোগটি কাজে লাগাতে পারত কিন্তু এখনো আমরা সব উচ্চবিদ্যালয় কলেজে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের পর্যাপ্ত সুবিধা উন্মুক্ত করতে পারি নি ২০০৯-’১০ অর্থবছরের বাজেটে ৭টি বিভাগে উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যালয়গুলোতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল প্রকল্পটি নারীবান্ধব হলেও বরাদ্দ ছিল অত্যন্ত কম তাছাড়া কয়টি বালিকা বিদ্যালয়ে ল্যাব স্থাপন করা হবে তার কোনো লক্ষ্যও স্থির করা ছিল না ফলে অনেক বালিকা বিদ্যালয়ই এই প্রকল্প থেকে কোনো উপকার পায় নি অনেক বালিকা বিদ্যালয়ে যে বিজ্ঞান বিষয়টি পড়ানোই হয় না, তার একটি প্রধান কারণ এটিই অথচ গত তিন বছরের প্রবণতা লক্ষ করে ১২ এপ্রিল ২০১২ দৈনিক প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, ‘বিজ্ঞানে মেয়েদের অংশগ্রহণ কম, কিন্তু সাফল্য বেশি এই সাফল্যের সূত্র ধরে আমাদের উচিত মেয়েদের বিজ্ঞান শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করে দেয়া উপযুক্ত বিজ্ঞান শিক্ষার মাধ্যমেই যোগাযোগ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মেয়েরা দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠে নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড়ো পরিবর্তন সাধন করতে পারে আমরা সেদিকে সরকারের জোরালো পদক্ষেপ প্রত্যাশা করি
চলতি বাজেটে গৃহীতবেসিক আইটি স্কিলস ট্রান্সফার আপটু উপজেলা লেভেলশীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্পটিও জেন্ডার সংবেদনশীল কিন্তু এখানেও নারীর জন্য সচেতনভাবে কোনো কোটা গ্রহণ করা হয় নি চলতি বাজেটে গৃহীতবঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ অন এসআইসিটিশীর্ষক প্রকল্পটির ক্ষেত্রেও নারীর জন্য কোনো নির্দিষ্ট কোটা না-থাকায় এই ফেলোশিপের সুবিধাও পুরুষই বেশি পাচ্ছে

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ১৬০টিরও অধিক কমিউনিটি -সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে এবং প্রতিটি সেন্টারে একজন পুরুষ একজন নারী অপারেটর বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগদানের নীতি গ্রহণ করা হয়েছে কিন্তু মাঠপর্যায়ে (নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ বারহাট্টা) তৃণমূল নারী-পুরুষদের সাথে মতবিনিময়ে জানা গেছে, ৬২. শতাংশ তৃণমূল নারীর এসব তথ্যকেন্দ্র সম্পর্কে কোনোই ধারণা নেই কমিউনিটি পর্যায়ের নারী-পুরুষরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ সময় এই কেন্দ্রগুলো তালাবন্ধ থাকে ফলে প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও যে পরিমাণ আইসিটি সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর সুবিধাও নারীদের কাছে ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে না দেখা গেছে, বিসিসির বিভাগীয় কেন্দ্র এবং স্থাপিত ল্যাবসমূহে ১১০০ জনেরও অধিক শিক্ষককে আইসিটি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মাত্র ১৮ শতাংশ ছিল নারী, যদিও নীতি ছিল সমানসংখ্যক নারী-পুরুষ এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন
 
সরকারি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটগুলোতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ হচ্ছেন নারী ডিরেক্টরেট অব টেকনিক্যাল এডুকেশন মাধ্যমিক এবং উচ্চ-মাধ্যমিক স্তরের স্কুলগুলোতে ভোকেশনাল কোর্স এবং কম্পিউটার কোর্স চালু করেছে কিন্তু দেখা গেছে, এই কোর্স ঢাকা শহরের কয়েকটি বালিকা বিদ্যালয় কলেজ ছাড়া আর কোথাও চালু করা হয় নি এই অবস্থা প্রথমত নারীর এবং দ্বিতীয়ত বড়ো শহর এবং ছোটো শহর বা গ্রামাঞ্চলের মধ্যে বিরাজমান বৈষম্যকেই তুলে ধরে

২০০৯-’১০ থেকে ২০১১-’১২ তিন বছরে বিজ্ঞান তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল যথাক্রমে মোট বাজেটের .৩৭ শতাংশ, .৩৮ শতাংশ .৩৭ শতাংশ জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন (জিবিআর) অনুযায়ী বিজ্ঞান তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ২০১১-’১২ অর্থবছরের সর্বমোট বাজেট বরাদ্দের মাত্র ২০ শতাংশের উপকার নারী পাবে বলে ধারণা করা হয়েছে একই হিসাব মতে, এই মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব ব্যয়ের মাত্র প্রায় ২১ শতাংশ এবং বার্ষিক উন্নয়ন ব্যয়ের মাত্র ১৯ শতাংশ নারীগোষ্ঠীর কল্যাণে ব্যয় করা হবে বলে মনে করা হয়েছে কিন্তু মাঠপর্যায়ে উপকারভোগীদের হিসাব নিয়ে দেখা গেছে, জেন্ডার সংবেদনশীল প্রকল্পগুলো থেকে নারী যে অংশ পাবে বলে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবক্ষেত্রে নারী তা পায় না
 
এই পরিস্থিতিতে আমরা আসন্ন ২০১২-’১৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে বিজ্ঞান, তথ্য তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারীর প্রতি ন্যায্য সুবিধা নিশ্চিত করতে নিম্নোক্ত সুপারিশমালা পেশ করছি :

বিজ্ঞান তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সুপারিশ 
  1. তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নারী অংশগ্রহণ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে জাতীয় বাজেটে তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়সহ শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, যুব উন্নয়ন খাতে নারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট উপযুক্ত বরাদ্দ বৃদ্ধি সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে
  2. তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের বাজেটীয় সুবিধাগুলো যথাযথভাবে গ্রহণের জন্য নারীর জন্য শিক্ষা প্রশিক্ষণের সুযোগ প্রসারিত করতে হবে
  3. ইউনিয়ন স্তরে কেবল নারীর জন্য তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে এবং এই লক্ষ্যেক্যাশ ফর এডুকেশনশীর্ষক নিরাপত্তা বেষ্টনীমূলক প্রকল্পটির আদলেক্যাশ ফর ট্রেনিং অন আইসিটিশীর্ষক একটি নিরাপত্তা বেষ্টনীমূলক প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে
  4. গ্রামগঞ্জের মেয়েশিক্ষার্থীদের কম্পিউটার সাক্ষরতা দক্ষতা প্রদান করতে সেখানকার বালিকা বিদ্যালয়গুলোতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন এবং কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এই ব্যবস্থা নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি নগর গ্রামের মধ্যকার শিক্ষা-আয়-ডিজিটাল বৈষম্য হ্রাস করবে
  5. কম্পিউটার শিক্ষাকে সহায়তা প্রদানের জন্য গ্রামগঞ্জ স্তরের বালিকা বিদ্যালয়গুলোতে ইংরেজি শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে কারণ কম্পিউটার শিক্ষা গ্রহণের এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের একটি পূর্বশর্ত হলো ইংরেজি ভাষা জানা
  6. উচ্চতর শিক্ষা, বিশেষ করে কারিগরি এবং প্রকৌশল শিক্ষায় নারীর প্রবেশের পথ সুগম করার জন্য কেবল নারীর জন্য প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে
  7. তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রগুলো স্থাপনের সময় নারীর চলাচলের প্রতিবন্ধকতাকে বিবেচনায় গ্রহণ করতে হবে একই সাথে কেন্দ্রগুলোতে নারীদের আগমন উৎসাহিত করতে এলাকার নারীদের সাথে আলোচনাসাপেক্ষে তাঁদের জন্য সুবিধাজনক সময় নির্ধারণসহ আনুষঙ্গিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে
  8. বেসিক আইটি ট্রান্সফার আপটু উপজেলা লেভেলশীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্পটিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে এবং এই প্রকল্পে নারীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে
  9. চলতি বাজেটে গৃহীতবঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ অন এসআইসিটিশীর্ষক প্রকল্পটিতে নারীর জন্য কোটা নির্দিষ্ট করতে হবে
  10. বিসিসির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ইন্ট্রুডাকশন টু অফিস অ্যাপ্লিকেশন আন্ডার ওমেন ইন ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সে সমানসংখ্যক নারী পুরুষকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে
  11. প্রতিটি কমিউনিটি -সেন্টারে একজন পুরুষ একজন নারী অপারেটর বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগদানের যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, তার যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে
  12. বিটিসিএল, টেলিটক, টেলিফোন শিল্প সংস্থা, বিসিএসআইআর-এর মতো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন যোগাযোগপ্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক কারিগরি প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে নারীদের জন্য শিক্ষানবিশ এবং ইন্টার্ন হিসেবে হাতেকলমে কাজ করার সুযোগ তৈরির মাধ্যমে নারীকে বিজ্ঞান প্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে
তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সুপারিশ
  1. তথ্য গণযোগাযোগ ক্ষেত্রে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মাস কমিউনিকেশন, প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ, ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা, বাংলাদেশ বেতার টেলিভিশনের মতো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে নারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোটাভিত্তিক শিক্ষানবিশ এবং ইন্টার্ন হিসেবে হাতেকলমে কাজ করার সুযোগ তৈরির মাধ্যমে তাদের এই কর্মক্ষেত্রে প্রবেশে উৎসাহিত করতে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নিতে হবে
  2. একই উদ্দেশ্যে সাংবাদিকতা, গণযোগাযোগ, চলচিত্র-টেলিভিশন-রেডিও বিষয়ক অধ্যয়নে নারীদের উৎসাহিত করতে দেশীয় আন্তর্জাতিক শিক্ষালয়ে যাবার জন্য মেয়েশিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদানের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করা দরকার
  3. রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সম্প্রচার মাধ্যমে সাংবাদিক, সম্পাদক, অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারী নির্মাতা, প্রযোজক, গবেষক, আলোকচিত্রী, ভিডিও চিত্রগ্রাহক প্রভৃতি পদে নারীদের কোটা অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশনের ভিত্তিতে নিয়োগ দান করা দরকার 
  4. তথ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে তৃণমূল নারীর তথ্য প্রয়োজনগুলো বিবেচনায় গ্রহণ করে নতুন নতুন তথ্য প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে; যেমন রেডিও-টিভিতে কৃষি কৃষিপণ্য সম্পর্কিত, হাঁসমুরগি পালন সম্পর্কিত, স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্তিস্থান সম্পর্কিত, দেশ-বিদেশের কর্মসংস্থান সম্পর্কিত, নারীর অধিকার এবং মানবাধিকার সম্পর্কিত অনুষ্ঠান এবংমীনাপ্রোগ্রামটি আরো ব্যাপকভাবে সম্প্রচার করা
  5. নারী উন্নয়ন নারীর সমানাধিকার প্রসারে নারীদের দ্বারা পরিচালিত কমিউনিটি রেডিও প্রতিষ্ঠায় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের জন্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট ব্যবস্থা রাখা দরকার
  6. ব্যক্তিমালিকানায় নতুন রেডিও স্টেশন টিভি চ্যানেলের অনুমোদন দেওয়ার সময় নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারীর প্রতি সহিংসতা এবং যৌন হয়রানি বন্ধ বিষয়ক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করার শর্ত জুড়ে দিয়ে তা পূরণের জন্য রাজস্ব প্রণোদনা দিতে হবে
  7. দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্তনারীর প্রতি সহিংসতা রোধে যৌথ কর্মসূচিশীর্ষক প্রকল্পটি পৌঁছে দিতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন
বন্ধুগণ

আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়ার জন্য বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ ইউ এন ওমেনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন আশা করি, নারীর সার্বিক ক্ষমতায়নের কথা চিন্তা করে এদেশের নারীসমাজকে বিজ্ঞান তথ্যপ্রযুক্তিতে পারদর্শী দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সুপারিশসমূহ গণমাধ্যমে তুলে ধরা ছাড়াও আপনারা আপনাদের নিজস্ব ক্ষেত্র থেকে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবেন
সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ